Monday, November 23, 2020
করোনা ভাইরাস বিসিজি টিকা বাঁচাতে পারে করোনাভাইরাস থেকে

বিসিজি টিকা বাঁচাতে পারে করোনাভাইরাস থেকে

বিসিজি টিকা আসার পর থেকে বিশ্বে মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। উদাহরণ স্বরূপ বলা হয়, মৃত্যুর হার বেশি হওয়ায় ১৯৮৪ সালে বিসিজি কার্যক্রম শুরু করে ইরান। দেশটিতে বিসজি টিকা দেয়া মানুষের মধ্যে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি তেমন একটা পাওয়া যায়নি।

গবেষণায় দেখা গেছে, কভিডে হিমশিম খাওয়া যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেন, বেলজিয়ামে জাতীয়ভাবে বিসিজি টিকা কর্মসূচি নেই। অন্যদিকে ইরানে যক্ষ্মার ভ্যাকসিনটি সর্বজনীন করা হয় অনেক পরে, ১৯৮৪ সালে। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতেও মৃত্যুহার অনেক বেশি। তবে ইরানে বয়স্কদের মধ্যে যারা বিসিজি টিকা নিয়েছেন, তারা কভিডের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে পারছেন এবং মৃত্যু হারও কম।

এ বিষয়ে নিউ ইয়র্ক ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি কলেজ অফ অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিনের পক্ষ থেকে বলা হয়, পৃথিবীর যে সব দেশে বিসিজি টিকাদান কর্মসূচি নেই যেমন ইতালি, নেদারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে দীর্ঘস্থায়ী টিকাদান কর্মসূচি যে সব দেশে চালু আছে ওইসব দেশের মানুষের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কম।

নিজেকে খুব সৌভাগ্যবান ভাবতে পারেন যদি আপনার বাম হাতে থাকে বিসিজি বা ব্যাসিলাস ক্যালমেট-গুউরিন টিকার দাগ। আমাদের দেশে অধিকাংশ মানুষের শরীরে রয়েছে এই টিকার দাগ যা যক্ষার প্রতিষেধক হিসেবে শৈশবে দেয়া হয়েছিল। আর এই টিকাই প্রতিরোধ করতে পারে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস।

স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মেডআর্কাইভ গত ২৪ মার্চ একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি প্রতিষ্ঠানের ছয় বিজ্ঞানীর অনুসন্ধান বলছে, যেসব দেশের জাতীয় নীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিসিজি টিকা কর্মসূচি রয়েছে সেখানে ভয়াবহ হয়নি কভিড সংক্রমণ।

এর ফলে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশ। কারন বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের শরীরে রয়েছে এই টিকার দাগ, যা যক্ষ্মার প্রতিষেধক হিসেবে শৈশবে দেয়া হয়েছিল।বাহুতে বিসিজি বা ব্যাসিলাস ক্যালমেট-গুউরিন টিকার দাগই এখন হতে পারে স্বস্তির কারন।

আর এমন দাবির সঙ্গে মিলে যাচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতিও । চীন থেকে করোনা ভাইরাসের উৎপত্তি হলেও এই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি মারা গেছে ইতালিতে। আর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।

অন্যদিকে, জাপানে ১৯৪৭ সালে বিসিজি টিকা সর্বজনীন করা হয়। এজন্য ইরানে কভিডে মৃত্যু হার যখন ১৯ দশমিক ৭, জাপানে তখন শূন্য দশমিক ২৮। আবার ব্রাজিলে ভ্যাকসিনটি ১৯২০ সাল থেকেই সর্বজনীন। সেখানে মৃত্যুহার ০.০৫৭৩।

যক্ষ্মার প্রতিষেধক হিসেবে বাংলাদেশে এই টিকা কর্মসূচি স্বাধীনতারও অনেক আগে থেকে। ১৯৭৯ সাল থেকে নবজাতকে বিসিজি বা ব্যাসিলাস ক্যালমেট-গুউরিন টিকা দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।

সারা দেশে এখন প্রায় ৯৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ মানুষের শরীরে এই টিকা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমএনসি অ্যান্ড এইচ’র পরিচালক শামছুল হক।

১১ এপ্রিল পর্যন্ত অফিস বন্ধ। বিস্তারিত পড়তে এখানে ক্লিক করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সাম্প্রতিক আপডেট

স্বাস্থ্যকর্মীদের পর্যাপ্ত সরঞ্জাম নেই,চিকিৎসায় বেহাল দশা

চীনে গত ডিসেম্বরেই করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। মার্চের ৮ তারিখ বাংলাদেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এরপরই স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়টি আলোচনায় আসে।...

যুক্তরাষ্ট্র WHO তে অর্থায়ন বন্ধ করবে-ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন যে তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে WHO (ডাব্লুএইচও) অর্থায়ন বন্ধ করতে যাচ্ছেন। কারণ করোনভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রতিক্রিয়ায় এটি "এর...

নতুন আক্রান্ত ২১৯ জন, মৃত্যুবরণ করেছে ৪ জন

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় নতুন আক্রান্ত হয়েছেন ২১৯ জন। এছাড়া আরো ৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। নতুন আক্রান্ত ২১৯...

আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার অতিক্রম।নতুন আক্রান্ত ২০৯

করোনায় বাংলাদেশে মাত্র ৩৮ দিনেই আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার অতিক্রম করলো। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন শনাক্ত হয়েছে ২০৯ জন।

মতামত